২০ মিনিট আগের আপডেট; রাত ১২:২৬; মঙ্গলবার ; ০১ ডিসেম্বর ২০২০

মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু

এম.এ আজিজ রাসেল ২২ অক্টোবর ২০২০, ২৩:২৬

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজা। দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হল। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে মন্ডপে মন্ডপে ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। তবে আয়োজনে অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। তাপমাত্রা পরীক্ষা করে প্রবেশ করানো হয়েছে সবাইকে। সামাজিক দূরত্বের জন্য রাখা হয়েছে ব্যবস্থা। মাস্ক ছাড়া কাউকে মন্ডপ এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি আর বাজেট কাটছাঁটের কারণে এমনিতেই এবার উৎসবের সেই আড়ম্বর নেই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টির চোখ রাঙানি। সব মিলিয়ে কক্সবাজারে পূজোর আকাশে আক্ষরিত অর্থেই এবার মেঘের ঘনঘটা। লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে নানা কারণে পূজার্থীদের মনে জমে থাকা মেঘও যেন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে।

মহাষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে বাঙালির শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শাস্ত্রমতে, দেবী দুর্গা অসুর বধ করে ভক্তদের মধ্যে শান্তি ছড়িয়ে দিতেই কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যলোকে নেমে আসেন। বুধবার বোধনের মাধ্যমে এবারের দুর্গোৎসবের আচার পর্ব শুরু হয়। আজ ষষ্ঠীর দিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে শুরু হওয়া বন্দনা পূজার সমাপন হয় বিহিত পূজায়। আবাহনের মাধ্যমে মূল মন্ডপে দেবী আসীন হওয়ার পর সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস। শুক্রবার সপ্তমী।

গোলদিঘির পাড়স্থ ইন্দ্রসেন দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির দিপু দাশ বলেন, “এবার দর্শনাথীদেরও আগ্রহ কম। স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রচারণা করছি। মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। বেশি সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে।”

শ্রাবন্তী মূখার্জি নামে এক পূজার্থী বলেন, “প্রতিবছর পূজায় কয়টা দিন পরিবারের সদস্য আর বন্ধুদের নিয়ে মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখতাম। এবার করোনার কারণে জীবনযাত্রা তো স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। তাই পূজা ঘিরে আগ্রহ বেশি ছিল। ভেবেছিলাম পূজায় অন্তত বেড়ানো হবে।  “কিন্তু নানা রকম নির্দেশনা আর স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি বেশি। বৃষ্টিও শুরু হয়েছে। এবার হয়ত তেমন করে আর বেড়ানো হবে না।”

সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক দাশ বলেন, করোনার সংক্রমণের কারণে এবার উৎসব হচ্ছে না, “ধর্মীয় রীতি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই পূজার উৎসবে ভাটা পড়েছে। এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্ডপ প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবুল শর্মা বলেন, “২৬ অক্টোবর শোভাযাত্রাবিহীন বিশে^র দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। কিন্তু সেখানে আনুষ্ঠানিক কোন অনুষ্ঠান করা হবে না। এবার সৈকতে শুধু রামু, উখিয়া, সদর উপজেলা ও কক্সবাজার পৌর শহরের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে।

বাকিরা স্ব স্ব উপজেলায় প্রতিমা বিসর্জন দেবে। বিসর্জনে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পূজার্থীদের সন্ধ্যার আগেই মন্ডপে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কারণ সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়বে।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ বলেন, “এবারের পূজা সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপন করা হবে। দুর্গাপূজার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা হিন্দুদের কিন্তু মূলবাণী সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে নিবেদিত। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা। অর্থাৎ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে সর্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা।

সব মানুষের সুখ-শান্তি কামনায় এবং সর্বজীবের মঙ্গলার্থে হিন্দু সম্প্রদায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশে নানা উপচার ও অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে প্রতিবছর উদযাপন করে থাকে শারদীয় দুর্গোৎসব। কিন্তু এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে এই আনন্দধারায় এবার কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। তবে আশাকরি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বাধা অতিক্রম করতে আমরা সক্ষম হবো। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন, এমনটাই সকলের প্রত্যাশা।”

তিনি আরও বলেন, “পূজায় রং ছিটানো ও বাজি ফুটানো যাবে না। নামাজ শুরু আগে ও পরে ৩০ মিনিট মন্ডপে বাদ্যযন্ত্র ও মাইক বন্ধ থাকবে।”

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান বলেন, “সাগরে লঘুচাপের কারণে সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।”


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৬৮