২৫২ মিনিট আগের আপডেট; দিন ৩:৩৩; শুক্রবার ; ২২ অক্টোবর ২০২০

রণক্ষেত্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট

এম.এ আজিজ রাসেল ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:২১

♦গাড়ি ভাংচুর ♦ সাংবাদিকসহ আহত ২০ ♦ আটক ৮

কক্সবাজার: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে হোটেল মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্ট। এসময় বুলডোজার, পুলিশ ভ্যানসহ ৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের ছুঁড়া ইটপাটকেলে আহত হয়েছে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২০ জন। ঘটনাস্থল থেকে ৮ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় বহুল আলোচিত ৫২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে সকাল ১০ টা থেকে সুগন্ধা পয়েন্টে দোকান উচ্ছেদ না করতে কাফনের কাপড় নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ব্যবসায়ীরা। দোকান উচ্ছেদ করলে আত্মহত্যাসহ নানা হুমকি দেয় তারা। পরে দুপুরে ৫২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অভিযান চালায়।

অভিযানে ছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ, কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) পঙ্কজ বড়ুয়া ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াসের নেতৃত্বাধীন টিম। 

তবে অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ে প্রশাসনের যৌথ টিম। এসময় দখলবাজ চক্রের অন্যতম হোতা স্বেবচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুর রহমান, হাজি জসিম উদ্দিন, যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুল, জয়নাল ও মুফিজের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে আসা টিমের উপর ইটপাটকেল ছুঁড়া হয়।

এসময় দখলবাজরা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তারের গাড়ি, বুলডোজার ও পুলিশ ভ্যানসহ ৫টি গাড়ি ভাংচুর চালায়। দখলবাজরা বৃষ্টির মতো উচ্ছেদ অভিযানে আসা টিমের সদস্য ও পুলিশের উপর অবিরাম ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন নিরূপায় হয়ে পিছু হটে পুলিশ। পরে ব্যবসায়ী ও দখলবাজদের দমাতে ফাঁকা গুলি, রাবারবুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে পুলিশ। 

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয় যমুনা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি নুরুল করিম রাসেল গুরুতর আহত হয়। তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) পংকজ বড়ুয়া, সদর থানার ওসি শেখ মুনিরুল গীয়াস, সাংবাদিক ইকবাল বাহার, জয়যাত্রা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি মো. ফরিদ, জিটিভির ক্যামরাপারসন সাঈদুল ইসলাম ও বুলডোজার চালক আহত হয়। 

ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ে কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এসে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং দখলকারীদের শান্তনা দেন তিনি। তাদেরকে পূনর্বাসন করারও আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

পরে উচ্ছেদ অভিযানে আসা টিমের সদস্য, পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে কক্সবাজার জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দাবীদার সরওয়ার আলম, ব্যবসায়ী জয়নাল ও দালাল কাজলসহ ৮ জনকে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) পংকজ বড়ুয়া বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ বলেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মোতাবেক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে সুগন্ধা পয়েন্টে ৫২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হয়। উচ্ছেদের আগে মালামাল সরিয়ে নিয়ে ব্যবসায়ীদের সময় দেয়া হয়। বেধে দেয়া সময় শেষ হলে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা বাধা দেয়। অনেক চেষ্টা করে তাদের সরিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর জায়গাটি সংরক্ষণ করা হবে। এবং ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নিবেন জেলা প্রশাসক।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এখানে যাদের দোকান ছিল তারা সকলেই ব্যবসায়ী। দোকানগুলো তাদের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে।


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৩৭৮