১৯ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৩:২৫; বৃহস্পতিবার ; ১৩ অগাস্ট ২০২০

সবার নজর কি এড়িয়ে ছিলেন এই প্রতারক?

মাইনউদ্দিন হাসান শাহেদ ০৮ জুলাই ২০২০, ২১:৪৮

কার সাথে নেই তাঁর ছবি। এমন হয়তো কেউ বাদ যায়নি। দেশের শীর্ষ ব্যক্তি, মন্ত্রী,এমপি,রাজনীতিক,শীর্ষ আমলা,বাহিনীর প্রধান ও ব্যবসায়ী সবার সঙ্গেই কিলকিল করে হেসে ছবি তুলেছেন। তাঁর পদচারণা ও হাবভাবই বোঝা যায় সে ক্ষমতার রাজনীতির সিঁড়িতে কতদূর এগিয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে ফেসবুকে দেশের 'গুনধর' এই প্রতারকের ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। মানুষের জীবন নিয়ে দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন শাহেদ করিম নামের এই প্রতারক। তিনি সরকারের অনুমোদনবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

তাঁর জীবনের আগাগোড়াই প্রতারণায় ভরপুর। সে কয়েকবছর আগে এমএলএম ব্যবসার সূচনা করে সাধারণ মানুষের কয়েকশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ৩২টি মামলাও হয়েছে। শুধু ব্যবসা বাণিজ্যে নয়, তিনি পরিচয়েও নানা প্রতারণা করে বেড়াতেন। একেক জায়গায় একেক নাম ও ভূয়া সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিতেন।

আবার এসব প্রতারণা ও বাটপারি থেকে নিজেকে আড়াল করতে সংবাদিকও বনেছেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের হর্তাকর্তাদের 'ম্যানেজ' করে টকশোতেও তার নিয়মিত যাওয়া আসা ছিলো। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ কমিটির সদস্য পরিচয় দিতেন।

কথা হলো, এত প্রতারণা এতদিন কারও কি নজরে ছিল না? তিনি অনুমোদনবিহীন হাসপাতালের পক্ষে কিভাবে সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের সঙ্গে করোনা চিকিৎসার জন্য চুক্তি করলো। এ নিয়ে বেশ হৈ চৈ শুরু হয়েছে। এখন আমরা আমজনতার দেখার পালা- এ নিয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যাই হোক তাঁর এসব অপকর্ম ও প্রতারণা নিয়ে এ যাবৎ কোন মিডিয়ায় অনুসন্ধানী রিপোর্ট হলো না। তাহলে কি সাংবাদিকেরা তার ব্যাপারে জানতো না। নাকি তাকে রাজনৈতিক দলের মতো আশ্রয়পশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন পরপর রূপকথার মতো এ রকম কিছু শাহেদ,জি কে শামীম ও পাপিয়ার কাহিনী শুনে মানুষ হাহুতাশ করে।কিন্তু আড়ালে যে কত শাহেদ ও শামীমদের পদচারনা রয়েছে -তাঁর কি কোন ইয়াত্তা আছে।

হয়তো কয়দিন এ নিয়ে একটু মাতামাতি হবে,তারপর সামনে আরেকটি ঘটনা আসলে বেমালুম ভুলে যাবে মানুষ। আড়ালেই থেকে যাবে এদের আশ্রয়পশ্রয় দাতারা। আমজনতার এদের ঘৃণা করা ছাড়া কিছু করার নেই।

লেখক:

লেখক ও সাংবাদিক

কক্সবাজার।


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৩৯৮