৬৬৫ মিনিট আগের আপডেট; দিন ১০:০৩; সোমবার ; ০৫ এপ্রিল ২০২০

নাইক্ষ্যংছড়ির মাদ্রাসা অধক্ষ্যের বিরুদ্ধে মাদরাসা বোর্ডের কারণ দর্শানো নোটিশ

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:২১

বান্দরবান জেলা প্রসাশকের স্বাক্ষর জালিয়তির দায়ে নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো, সৈয়দ হোছাইনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাইলেন বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ড ঢাকা। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় শাস্তিমূলক   ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (ঢাকা) রেজিষ্ট্রার মো: সিদ্দিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। কারন দর্শানো নোটিশ প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে।

 নং-বামাশিবো/প্রশাসন/বান্দরবান-০৭/২৫ স্মারকের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাধীন মদিনাতুল উলুম মডেল ইনষ্টিটিউট আলীম মাদরাসা পরিচালনার নিমিত্তে মো, শফি উল্লাহ এবং মো, ছৈয়দ আলমকে সদস্য করে বোর্ড কতৃক সূত্রোক্ত মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের স্মারক নং ১৪৬৬৮/নথি নং-০৭ তারিখ ১৮/১২/২০১৮ইং স্মারকে নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ওই অনুমোদনকৃত নির্বাহী কমিটিতে সদস্য মনোনয়ন না নিয়ে  জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়তি করে বোর্ড কতৃক নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করে নেন।

এতে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়তির মাধ্যমে বোর্ড কতৃক নির্বাহী কমিটি ' অনুমোদন নেওয়া বিষটি এক প্রকার প্রতারণার সামিল। সে বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় কেন অধ্যক্ষের  বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না পত্রপ্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য মাদরাসার প্রধানকে নির্দেশক্রমে অনুরুধ জানানো হয়।

অন্য এক সূত্রে জানাযায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত৬ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে কয়েক ঘণ্টা শুনানি শেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবুর রহমানের আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগার পাঠানোর আদেশ দেন। 

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)  অধ্যক্ষের মামলার রিমান্ড শুনানির ধায্যদিন থাকায় আদালতে হাজির হন অধ্যক্ষ ছৈয়দ হোছাইন। এতে  রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে একই সাথে জামিনও নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার  বান্দরবান সিনিয়র চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী) আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মুর্শেদুল ইসলাম রুবেল জানান- ইতোপূর্বের আদেশে মাদরাসার সুবিধাভোগীদের তদন্তের আওতায় আনার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার আসামিকে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। আদালত মামলার বিষয়বস্তু জেনে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এদিকে পুলিশের রিমান্ড আবেদনের পর আসামি সৈয়দ হোসাইনকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে নানা যুক্তিতর্ক তুলে রিমান্ডের বিরোধীতা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্র পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর বাচিং থোয়াই মারমা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানার এসআই রাজিব হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহি কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি জানান, জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়তি করার দায়ে মাদরাসার অধক্ষ্য ছৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় কারাগারে আছেন। তবে মাদরাসা বোর্ডের কোন নোটিশ অফিসিয়াল ভাবে এখনো পায়নি। 

এদিকে, কারন দর্শানো নোটিশ প্রেরণের বিষয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত (দায়িত্ব) মাওলানা রফিকুল আলম জানান, মাদরাসার অধ্যক্ষ ছৈয়দ হোসেন স্বাক্ষর জালিয়তি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তার স্থলে আমি মাদরাসার দায়িত্ব পালন করে আসছি। মাদরাসা বোর্ড থেকে কোন ধরনের পত্র বা  নোটিশ প্রতিষ্টানে পৌঁছেনি। এবং আমি এখনো পাইনি।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়তির দায়ে গত ২০১৯ সানের ২৪ ডিসেম্বর  রাতে সৈয়দ হোছাইনকে (৪২) বিবাদী করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় (৭-২৪/১২/১৯ইং) মামলা দায়ের করেন। বিবাদী উপজেলার মদিনাতুল উলুম মডেল ইনিস্টিটিউট আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ। জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় অধ্যক্ষ সৈয়দ হোছাইনকে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত।


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৩৮৩