১৮৫ মিনিট আগের আপডেট; দিন ৩:৪৬; সোমবার ; ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

কারখানায় পড়ে আছে জনসনের কোটি কোটি টিকা

অনলাইন ডেস্ক ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০১

গত প্রায় ৬ মাস যাবৎ ইমারজেন্ট বায়োসলিউশনের কারখানায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে জনসন অ্যান্ড জনসনের কয়েক কোটি করোনা টিকা। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের ওই কারখানায় পড়ে থাকা টিকাগুলোর মার্কিন টিকা নীতিনির্ধারকদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সর্বোচ্চ সংস্থা এফডিএ বলছে, ওই কোম্পানির টিকা যথেষ্ট মানসম্পন্ন কি না-তা যাচাইয়ের কাজ এখনও শেষ হয়নি। 

সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি জনসনের টিকা অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। 

ইমারজেন্ট সলিউশনের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যদি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে, সে ক্ষেত্রে বছর শেষ হওয়ার আগে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তত ৫ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করতে পারবে ইমারজেন্ট বায়োসলিউশন। 

গত এপ্রিল মাসে জনসন অ্যান্ড জনসন বাল্টিমোরের ইমারজেন্ট বায়োসলিউশনের সাইটে টিকার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছিল। তখন সেই একই সাইটে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎপাদনের কাজ চলছিল। ফলে জনসনের টিকার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উপকরণ মিশে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এই সমস্যার জেরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে ইমারজেন্ট সলিউশন কোম্পানির প্রস্তুতকৃত সব টিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় এফডিএ। 
 
এফডিএর এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের টিকাদান কর্মসূচি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ জনসনের টিকা। 

ইমারজেন্ট বায়োসলিউশনের কোম্পানির দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত টিকার ডোজের পাশাপাশি কারখানাটিতে বিপুল পরিমাণ ওষুধ তরল অবস্থা রয়েছে। সেগুলো এখনো শিশিবন্দি করা হয়নি। 

এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে এফডিএর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। 

এক বিবৃতিতে এ সম্পর্কে এফডিএ বলেছে, কোম্পানির বাল্টিমোরের কারখানায় এই টিকাগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। এফডিএ সেই কারখানা পরিদর্শন করেছে। কারখানাটির পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও টিকার প্রস্তুত প্রক্রিয়া যথেষ্ট মানসম্পন্ন নয়। 
 
 যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের মার্চে জনসনের ১০ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করে। গত মার্চে জনসনের সঙ্গে আরও ১০ কোটি ডোজ কেনার চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র। 

 গত সপ্তাহে এফডিএ জনসনের টিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বুস্টার ডোজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয়। এফডিএর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৮ বছরের ওপরে যে কেউ বুস্টার ডোজ হিসেবে জনসনের টিকা নিতে পারবেন। 

জনসনে টিকা গ্রহণের পর রক্ত জমাট বাঁধার কয়েকটি ঘটনা সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরিমাণ কমে যায়।


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৯৯