৯৮৬ মিনিট আগের আপডেট; রাত ২:১০; বৃহস্পতিবার ; ২৮ জুলাই ২০২১

চকরিয়ায় ৫০ বছরের দখলীয় জায়গা দখল করে টিনের বেড়া নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ১২ জুন ২০২১, ২২:২৪

চকরিয়ায় রাতের আঁধারে গাছ কেটে ইটের সীমানা দেয়াল গুড়িয়ে দীর্ঘ ৫০বছরের ভোগদখলীয় বসতভিটার জায়গা দখল করেছে একদল অস্ত্রধারী দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসী। এ সময় দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা বসতভিটায় ঢুকে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ কেটে সীমানা দেয়াল গুড়িয়ে টিনের ঘেরা-বেড়া নির্মাণ করেন। 

বিরোধীয় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোন মুহুর্তে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী জায়গার মালিক ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও তদন্তপূর্বক কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। পরে অভিযুক্ত জবর-দখলকারী বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি আর-৫৫৪/২০২১ ফৌজদারি দরখাস্ত দায়ের করেন।

উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডস্থ জমিদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানায়, উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের জমিদার পাড়া এলাকার মৃত মাষ্টার আবদুল মজিদের ছেলে নুরুল আলম তার পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ও  ক্রয়কৃত ৫০বছরের ভোগদখলীয় জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে দীর্ঘকাল যাবত শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছে। তার ভোগদখলীয় পৈত্রিক জায়গায় সম্প্রতি ওই এলাকার নুর আহমদের ছেলে মো: রফিক রাতের আঁধারে ১৫-২০জন ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারী দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসী নিয়ে বিভিন্ন ফলদ গাছ কেটে ইটের সীমানা দেয়াল গুড়িয়ে ভোগদখলীয় বসতভিটার জায়গায় টিনের ঘেরা-বেড়া নির্মাণ করেন। 


এনিয়ে ভুক্তভোগী জায়গার মালিক নুরুল আলম বাদী হয়ে অভিযুক্ত রফিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপের কারণে পুলিশ আইনগত ভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে দাবী করেছে।

পরে ভুক্তভোগী নুরুল আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বাদী হয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্ত  রফিকসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ১২জনকে অজ্ঞাতামা দেখিয়ে সি.আর ৫৫৪/২০২১ ফৌজদারি দরখাস্ত দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য চকরিয়া থানার ওসি'কে প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে অভিযুক্তরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরণের অশ্লীল গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে ভুক্তভোগী নুরুল আলম ও পরিবারের সদস্যদের। 

ভুক্তভোগী নুরুল আলম জানায়, ডেমুশিয়া মৌজার বিএস ৫১৪ নম্বর খতিয়ানে তার পিতা আবদুল মজিদসহ বিভিন্ন ওয়ারিশের ৩ একর ৭৬ শতক জমি রয়েছে। ওই জমিতে নাল, পুকুরসহ বিভিন্ন শ্রেণীর জমি নুরুল আলম এবং খতিয়ানের অন্যান্য ওয়ারিশ অংশিদার ভোগদখল করে আসছে। এতে নুরুল আলম তার পৈত্রিক ভাবে প্রাপ্ত জমিতে ও ক্রয়কৃত জমিতে নামজারী বিএস ১১৪১ নম্বর খতিয়ানের বিএস দাগ নং ৩২৫৬, ৩২৫৯, ৩২৬০,৩৪০৫, ৩২৫৫, ৩৭৫৩ দাগে ৫৮.৩৩শতক ও নামজারী বিএস ১৩৫৪ নম্বর খতিয়ানের বিএস দাগ নং ৩২৬০ দাগে ৫ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখলে রয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকার নুর আহমদের ছেলে মো: রফিক বিগত ১৯৯৯ সালে তাদের পৈত্রিক জোত খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক মৃত এজাহার আহমদের স্ত্রী আজবাহার ও মৃত জাফর আহমদের স্ত্রী ফিরোজ খাতুনের (দুইজনের) অংশ থেকে ১৫শত জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত রফিক প্রতারণার মাধ্যমে ওই খতিয়ানের আরো ১০ জন ব্যক্তির মিরাজী সম্পত্তির জায়গার মালিকানা দেখিয়ে একটি ২৫০৫ নম্বর রেজিঃ কবলা দলিল সম্পাদন করেন। সেই থেকে রফিক জোরপূর্বক ভাবে অতিরিক্ত আরো ১০শতক জায়গা জবর-দখলে রাখেন। এনিয়ে স্থানীয় ভাবে কয়েকদফা সালিশী বৈঠক করলেও রফিক কোন সালিশী বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে আসছিল ভুক্তভোগীকে। 

সম্প্রতি সময়ে ভুক্তভোগী নুরুল আলমের বসতভিটায় রাতের আঁধারে ১৫-২০জন ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারী দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসী নিয়ে মো: রফিকের নেতৃত্বে বিভিন্ন ফলদ গাছ কেটে ইটের সীমানা দেয়াল গুড়িয়ে তার দখলীয় জায়গায় টিনের ঘেরা-বেড়া নির্মাণ করেছে বলে ভুক্তভোগী জানায়।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী ও জায়গার মালিক নুরুল আলম তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তা ও হুমকিতে রয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। ঘটনার বিষয়ে তিনি  সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ১০০