১০৪৮ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৩:১৩; বৃহস্পতিবার ; ২৮ জুলাই ২০২১

কক্সবাজার জেলা আ.লীগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে এমপি জাফর আলমের ছয় দফা দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ জুন ২০২১, ২৩:১৮

চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টির জন্য তাঁদের দায়ী করেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় চকরিয়া থানা রাস্তার মাথাস্থ তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। 

লিখিত বক্তব্যে এমপি জাফর আলম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি-জামাতের সঙ্গে আতাঁত করে স্বেচ্ছাচারিতা ও অগঠনতান্ত্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৮জুন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা না ডেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব জাহেদুল ইসলাম লিটুকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এবং ১০জুন হঠাৎ একই কায়দায় আমাকেও দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করেন। 

যা সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক এবং অবৈধ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ (ছ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সদস্যের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের। তারা যে অভিযোগে আমাদের অব্যাহতি দিয়েছে তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, ‘এরআগে ৮জুন তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বান জানাজায় অংশ নিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার সময় চকরিয়া পৌরসভার চিংড়ি চত্বরে কিছু দুষ্কৃতকারী তাঁর গাড়ীর গতিরোধ করে উষ্কানিমূলক শ্লোগান দেয়। গাড়ী থেকে নেমে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। এই সময় ঘটনাস্থলে মেয়র আলমগীর চৌধুরী এগিয়ে এসে দুষ্কৃতকারীদের পক্ষ নিয়ে আমার কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ফলে আমি তাঁর অনুরোধে বাসায় চলে আসি। বিষয়টি চকরিয়া থানার ওসিও অবগত হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে এমপি জাফর আলম বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কক্সবাজার পৌরসভার জন্য পানি শোধনাগার প্রকল্প, ভূমি অধিগ্রহণের সময় ৩৬কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। যা দেশের প্রথম সারির দৈনিকে এসেছে। কতিপয় উচ্চ পদস্থ প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় ও যোগসাজসে ইতোমধ্যে ৭কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যা দুর্নীতি দমন কমিশন একাধিক ব্যাংক হিসাব ও কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের চেক জব্দ করেছে। মুজিবের দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত পানি শোধানাগার প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে মেয়াদোত্তীর্ণ কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে পুর্ণগঠনের দাবি তুলেন। এসময় তিনি ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। ছয়টি দাবিগুলো হলো, মেয়াদোত্তীর্ণ কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন করতে হবে, দলের সিনিয়র নেতাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অব্যাহতি সম্বলিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারপূর্বক ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, জেলার বিভিন্ন ইউনিটে জেলা আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেট রাজনীতির অবসানকল্পে তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হউক।

এছাড়াও দলের মধ্যে নেতাদের অগঠনতান্ত্রিকভাবে হটিয়ে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব সৃষ্টির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে কেন্দ্রে তালিকা প্রেরণ ও মনোনয়ন দেওয়ার নামে অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে, কক্সবাজার পৌরসভার পানি শোধানাগার প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান তদন্তে মেয়র মুজিবসহ যাদের নাম উঠে এসেছে তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে, দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনে মেয়র মুজিবুর রহমানের দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ওইসময় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অনুরাগ তুলে ধরে বক্তব্য দেন চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাংগীর আলম, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, সদস্য সচিব আবুল কাশেম, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো.ওয়ালিদ মিল্টন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আবু মুছা, সহসভাপতি বাবু তপন কান্তি দাশ, হারবাংয়ের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান, কোনাখালীর চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, কৈয়ারবিলের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন, টইটং ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, রাজাখালীর চেয়ারম্যান সৈয়দ নুর, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জামাল হোসেন চৌধুরী, পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান সোহেল, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগ নেতা লায়ন আলমগীর চৌধুরী প্রমুখ।


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৭২৫