৯৮৫ মিনিট আগের আপডেট; রাত ২:০৯; বৃহস্পতিবার ; ২৮ জুলাই ২০২১

লিচুর উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক: ০১ জুন ২০২১, ১৮:২৭

লিচু খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। ছোট কিংবা বড় উভয়েরই বেশ পছন্দের ফল লিচু। রসালো ও মিষ্টি স্বাদের লিচু এখন বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি আমাদের শরীরের হাজারো উপকার করে।

তবে মাত্রাতিরিক্ত লিচু খাওয়া মোটেও উচিত নয়। কারণ এর রয়েছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। তাই লিচু খাওয়ার আগে এর সম্পর্কে সবটুকু জেনে খাওয়া উচিত। তবেই বিপদ এড়িয়ে লিচুর পুষ্টি গ্রহণ সম্ভব হবে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক লিচুর উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত-

লিচুতে যত উপকারিতা

>> লিচুতে রয়েছে এনটিঅক্সিডেনট, যা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

>> ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকায় এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস থেকে আমরা রক্ষা পাই।

>> লিচুতে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি, নানা খনিজ উপাদান যেমন ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, কপার, ফলেট যেগুলো রক্তের উপাদান তৈরিতে সহযোগিতা করে।

>> লিচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যেটি আমাদের রক্ত ও নালীর চাপ কমিয়ে রক্তের স্বাভাবিক গতি বৃদ্ধি করে। তাই লিচু সেবনের একটি উপকার হল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকা।

মাত্রাতিরিক্ত লিচু খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

>> প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৬৬ ক্যালোরি রয়েছে। পরিমাণে বেশি লিচু খেলে তাই যে পরিমাণ ক্যালোরি জমা হয় তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে তাতে আমাদের ওজন বেশ ভালোভাবেই বৃদ্ধি পায়।

>> মাত্রাতিরিক্ত লিচু খেলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। লক্ষণ হিসাবে শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, মাতাহ ঘুরানো, বমি ভাব ইত্যাদি হতে পারে।

>> লিচু আমাদের রক্তের গ্লুকোজ কমাতে সহায়তা করে। তাই পরিমাণে বেশি খেয়ে ফেললে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া করতে পারে বিশেষত ইফতারের সময় এমনটি করলে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, যারা ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা লিচু গ্রহণে সাবধান থাকা উচিত। কারণ ওষুধ এমনিতেই রক্তে গ্লুকোজ কমিয়ে রাখে সঙ্গে লিচুও যদি একই কাজ করে তাহলে যেকোনো বিপত্তি ঘটতে পারে। ছোট বাচ্চারা লিচু গ্রহণ করলে কোনো অবস্থাতেই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে এতে।

>> জানেন কি, লিচু একটি গরম ফল। আর গরম ফল হওয়াতে বেশি পরিমাণে লিচু খেলে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার ব্যালেন্স নষ্ট হয়। ফলে গলাব্যথা হওয়া, মুখের ভেতরে ক্ষত হওয়া এমন কি নাক দিয়ে রক্তপাতও হতে পারে। বিশেষ করে আমাদের দেশের বর্তমান আবহাওয়ার কারণে এমনটা হওয়ার ভয় বেশি।

>> একটানা বেশ কয়েকদিন পরিমাণের বেশি লিচু খেলে আমাদের ইমিউনিটি বেড়ে যায়। এর ফলে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে। যেমন- রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরসিস, লুপাস ইত্যাদি রোগ থাকলে তা বেড়ে যেতে পারে।

>> সার্জারির রোগীদের অতিরিক্ত লিচু খাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রক্তচাপ এবং রক্তের গ্লুকোজের ওপর সরাসরি প্রভাব থাকাতে যাদের সার্জারির প্রয়োজন তারা সার্জারির পূর্বের দুই সপ্তাহ এবং পরের দুই সপ্তাহ লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

>> অন্যন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি- লিচুতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, জরুরি ফ্যাটি এসিড নেই। ফলে বেশি পরিমাণে লিচু খেলে তা শরীরের স্বাভাবিক ব্যালেন্স নষ্ট করে। তাই আমাদের সবার উচিত পরিমিতভাবেই লিচু খাওয়া।


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ১৪৭